1. masudkhan89@yahoo.com : admin :
  2. armanchow2016@gmail.com : bbn news : bbn news
বুধবার, ১৭ অগাস্ট ২০২২, ১০:২১ পূর্বাহ্ন

১০০০ স্বাস্থ্যকর্মীর মৃত্যু, এক ডজন চিকিৎসক মারা গেছেন ইন্দোনেশিয়া

সাংবাদিক :
  • আপডেট : শনিবার, ২৬ জুন, ২০২১
  • ৮৭ সংবাদ দেখেছেন

বিবিএন নিউজ ডেস্ক : পূর্ণ মাত্রার টিকা দেয়ার পরও ইন্দোনেশিয়ায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কমপক্ষে এক ডজন চিকিৎসক মারা গেছেন। সেখানকার চিকিৎসকদের একটি সংগঠন এ তথ্য জানিয়েছে। বলা হয়েছে, করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে সেখানে প্রায় এক হাজার স্বাস্থ্যকর্মী মারা গেছেন। ওই সংগঠনটি শুক্রবার নিশ্চিত করে বলেছে, এর মধ্যে চিকিৎসক মারা গেছেন ৪০১ জন। তাদের মধ্যে ১৪ জন আছেন, যাদেরকে পুরোপুরি টিকা দেয়া হয়েছিল। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা। এতে আরো বলা হয়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এ দেশটিতে স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যেও উচ্চ হারে করোনা সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। করোনা ভাইরাসের উচ্চ মাত্রায় সংক্রমণ ক্ষমতাসম্পন্ন স্ট্রেইনের কারণে অবস্থা খারাপ হয়ে পড়েছে। গত সপ্তাহে ২৭ কোটি মানুষের এই দেশে করোনা সংক্রমণ খুব বেশি দেখা দেয়। শনিবার পর্যন্ত সেখানে কমপক্ষে ২০ লাখ ৫০ হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হওয়ার তথ্য মিলেছে। রাজধানী জাকার্তা এবং অন্য যেসব স্থানে খুব বেশি সংক্রমণ দেখা দিয়েছে সেখানে হাসপাতালগুলোতে শতকরা ৭৫ ভাগ বেশি রোগী ভর্তি হচ্ছেন।

সংগঠনটির কোভিড-১৯ বিষয়ক প্রধান মোহাম্মদ আদিব খুমাইদি সাংবাদিকদের বলেছেন, আমরা এখনও ডাটা আধুনিকায়ন করছি। নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছি অন্য যারা মারা গেছেন তাদেরকে টিকা দেয়া হয়েছিল কিনা। এই দেশটিতে প্রয়োগ করা হচ্ছে চীনে তৈরি সিনোভ্যাক টিকা। এই টিকার ওপর খুব বেশি নির্ভরশীল ইন্দোনেশিয়া। এই টিকা ব্যবহার করে আগামী বছরের শুরু পর্যন্ত কমপক্ষে ১৮ কোটি মানুষকে টিকা দিতে চায় সরকার।এ মাসে মধ্য জাভা’য় টিকা দেয়া হয়েছে এমন কমপক্ষে ৩০০ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর দেহে করোনা সংক্রমণ হয়। তার মধ্যে প্রায় এক ডজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একই সঙ্গে সেখানে ভারতে প্রথম শনাক্ত হওয়া উচ্চ মাত্রার সংক্রামক ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টসহ নতুন নতুন ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ ঘটেছে। ডেটিক নিউজ ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, রাজধানী জাকার্তায় পরিস্থিতি এমন অবস্থায় গেছে যে, সেখানে হাসপাতালগুলোকে ইমার্জেন্সি তাঁবু স্থাপন করতে হয়েছে রোগীদের সেবা দিতে। প্রাদেশিক সরকারের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করা হয়েছে এই রিপোর্টে।

উত্তর সুমাত্রা প্রদেশের রাজধানী মেদানে কোভিড টাস্কফোর্সের সদস্য ড. ইনকি নাদিয়া ডি লুবিস। তিনি জানিয়েছেন, সেখানে গত ৬ মাসে ১৮০০ শিশু করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছে ১৪টি শিশু। আক্রান্তদের মধ্যে এক তৃতীয়াংশের বেশি হলো একেবারে হাতেখড়ি দেয়া হয় এমন স্কুলে পড়ার বয়সী। এক চতুর্থাংশ হলো মাধ্যমিক স্কুলে পড়ার উপযোগী বয়সী। শুক্রবার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো বলেছেন, তার দেশ ব্যতিক্রমী এক পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। তিনি দ্রুত এবং উপযুক্ত নীতি গ্রহণের প্রত্যয় ঘোষণা করেন। এক্ষেত্রে সরকারি কর্মকা-ে জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন।

মেডিকেল এসোসিয়েশনের পশ্চিম জাভা অঞ্চলের মুখপাত্র ইকা মুলিয়ানা বলেছেন, ক্লিনিক্যাল লক্ষণগুলো এটাই বলে দেয় যে, পশ্চিম জাভায় করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি হচ্ছে স্ট্রেইনের কারণে। হাসপাতালগুলোতে শতকরা ৯০ ভাগের বেশি বেডে রোগীতে ভর্তি। কোনো কোনো হাসপাতালের বেড শতভাগ রোগীতে ভর্তি। এই অবস্থায় আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে নমুনা পরীক্ষায় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট পাওয়ার পর মধ্য জাভায় কুদুস এলাকার কয়েক ডজন অঞ্চলে লকডাউন করা হয়েছে। পবিত্র রমজানে কয়েক লাখ মানুষ ওই অঞ্চল থেকে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েন সরকারি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও। এর ফলে সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ইন্দোনেশিয়ার মেডিকেল এসোসিয়েশনের কুদুস এলাকার প্রতিনিধি আহমেদ ইপুল সাইফুদ্দিন বলেছেন, গণহারে মানুষের চলাচলের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ে। কে প্রথম ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়েছে তা শনাক্ত করার উপায় নেই। ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের জন্য যেসব নমুনা নেয়া হয়েছে তার মধ্যে আমারটাও ছিল। এরই মধ্যে আমি পজেটিভ থেকে নেগেটিভে এসেছি। তবে এখনও অনেক কাশি আছে।

শেয়ার করুন

একই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2021,বিবিএন নিউজ
Developer By Zorex Zira