1. masudkhan89@yahoo.com : admin :
  2. armanchow2016@gmail.com : bbn news : bbn news
শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:২২ পূর্বাহ্ন

সাগরে বিলীন হচ্ছে মহেশখালীর ধলঘাটা ইউনিয়ন

সাংবাদিক :
  • আপডেট : সোমবার, ১২ জুলাই, ২০২১
  • ৭৪ সংবাদ দেখেছেন

এইচএম ফরিদুল আলম শাহীন, কক্সবাজার: কক্সবাজারের ডিজিটাল আইল্যান্ড মহেশখালীর সাগর বেষ্টিত ইউনিয়ন ধলঘাটা সাগরের করাল গ্রাসে পড়ে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে। গত ৩০ বছরে সাড়ে তিন হাজার একর জমি সাগর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

তবে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ উন্নয়নের মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার ২২ হাজর কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। ওই কাজ ২০২৫ সাল নাগাদ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্ভরযোগ্য সূত্র।

সমুদ্রের ভাঙনের কবলে পড়ে গৃহ হারিয়ে সাড়ে ৬ হাজার গ্রামবাসী উদ্বাস্তু হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় মাস্টার মনজুর আহমদ জানান, ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ফলে ধলঘাটা ইউনিয়ন অরক্ষিত হয়ে পড়ে। ১০ কিলোমিটার বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কতৃক নির্মিত বেড়িবাঁধ মাটির সঙ্গে মিশে গিয়েছিল। এরপর থেকে শত চেষ্টা সত্বেও ধলঘাটায় টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা সম্ভব হয়ে উঠেনি।

১৯৯৭ সালের ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ফলে আরেক দফা ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়ে ধলঘাটা। দু’দফা সাইক্লোনের পর রীতিমতো জোয়ার -ভাটায় সয়লাব হতে থাকে ধলঘাটা ইউনিয়ন। সমুদ্রের ভাঙনের কবলে পড়া এ সব লোকজন আশ্রয় নেয় উঁচু এলাকায়। বিশেষ করে কক্সবাজার, চট্রগ্রাম, চকরিয়া, লামা, আলীকদম, বান্দরবান, মহেশখালী দ্বীপের উঁচু এলাকা হোয়ানক, শাপলাপুর ও কালারমারছড়াসহ বিভিন্ন এলাকায়।সাগরে বিলীন হচ্ছে ধলঘাটা ইউনিয়ন

সাগরে বিলীন হচ্ছে ধলঘাটা ইউনিয়ন

এক সময়ের ধলঘাটা খাতুর বাপের পাড়ার বাসিন্দা আবুল কাশেম বলেন, ধলঘাটা ছেড়ে চলে এসেছি ৩১ বছর আগে। ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে আমার বাড়িঘর সাগরে বিলীন হয়ে  যায়। সেই সঙ্গে সাগর কেড়ে নিয়েছিলো আমার ৩ সন্তান। তখন নিঃস্ব হয়ে আমার পরিবার নিয়ে চলে আসি মহেশখালীর হোয়ানক ইউনিয়নে। এখানে এসে নতুন করে আবার সবকিছু শুরু করেছি। কিন্তু এখনো সেই কালো রাত্রির কথা ভুলিনি। বারবার মনে পড়ে আমার ৩ সন্তানের কথা।

স্থানীয় বাসিন্দা এজাহার মিয়া বলেন, ১৯৪০ সালে ধলঘাটার সুতরিয়ায় আমার জন্ম। এ গ্রামে আমার জীবন যৌবন কেটেছে। এ জমিতে আমার বাবা- মার করব রয়েছে। যৌবনে কৃষি কাজ করে সংসার চালিয়েছিলাম বেশ। এখন বয়সের বাড়ে নুয়ে পড়েছি। ছেলে সন্তানদেরও তেমন পড়াশোনা করাতে পারিনি। তাই তারাও আমার পেশায় যুক্ত রয়েছেন। কৃষিই আমাদের জীবনের চালিকাশক্তি। কৃষি কাজ করে সংসার চলে। এ জীবনে কোনো দিন শহর দেখিনি এবং দেখতে চায়ও না। এখন শুনছি উন্নয়নের জন্য নাকি আমার প্রিয় ধলঘাটা ছেড়ে দিতে হবে। চলে যেতে হবে শহরে। এ গ্রাম ছেড়ে যেতে চাইনা। আমার  বাবা-মার কবরের পাশে থাকতে চাই।

সাগরে বিলীন হচ্ছে ধলঘাটা ইউনিয়ন

সাগরে বিলীন হচ্ছে ধলঘাটা ইউনিয়ন

ধলঘাটা ইউপি চেয়ারম্যান  কামরুল হাসান জানান, ৩ ও  ৪ নম্বর  ওয়ার্ডে বর্তমানে ১০০-১৫০ জন ভোটার রয়েছেন, যেখানে গত ১০ বছর আগেও ২ থেকে আড়াই হাজার ভোটার ছিল, তাই উক্ত ওয়ার্ড সমূহকে ভোটার সম বন্টনের মাধ্যমে পূণ-বিন্যাস করে সীমানা নির্ধারণে মহেশখালীর ইউএনও’র মাধ্যমে ইসি কার্যালয়ে আবেদন করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, গ্রামের পর গ্রাম বিলীন হয়েছে সাগর গর্ভে। মসজিদ, স্কুল, মাদরাসা, মক্তব ও ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র। বিশেষ করে, শরইতলা, হামিদখালী, সাইটপাড়া, আমতলী, খুইজ্জারটেক, পন্ডিতের ডেইল, বেগুন বুনিয়া ও খাতুরবাপের পাড়াসহ সুতরিয়া ডেইলের একাংশ সাগরের অব্যাহত ভাঙনে বিশাল- বিস্তৃর্ণ জনপদ সমুদ্রে বিলীন হয়ে গেছে।

সাগরে বিলীন হচ্ছে ধলঘাটা ইউনিয়ন

সাগরে বিলীন হচ্ছে ধলঘাটা ইউনিয়ন

আদমশুমারীর তথ্যানুযায়ী ১৯৯১ সালে ধলঘাটার জনসংখ্যা ছিল ৩১ হাজার। বর্তমানে ওই ইউপির জনসংখ্যা ১৩ হাজারে এসে দাঁড়িয়েছে। ৯১-৯৭ সালের ঘূর্ণিঝড়ে ও জলোচ্ছ্বাসে প্রায় ১০ হাজার লোক মারা যায়। পুরো ইউপির আয়তন ৯১ সালের আগে ছিল ২০ বর্গ কিলোমিটার। বর্তমানে এ দ্বীপের আয়তন ৮-১০ বর্গ কিলোমিটার চলে এসেছে।

অব্যাহত সাগরের ভাঙনের ফলে ধলঘাটা ইউনিয়ন মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন। যে কারণে গৃহহারা হাজার হাজার লোক উদ্বাস্তু হয়ে পড়ে। তবে আশার কথা হচ্ছে সরকার ধলঘাটাকে রক্ষা করতে উন্নয়নের মেঘা প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। দেশি-বিদেশি হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে সেখানে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এরই মধ্যে ১২০০ একর জমি অধিগ্রহণ করেন সরকার। জমি মালিকদের ক্ষতি পূরণের টাকা প্রদান করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৫১০ একর জমির ওপর অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলতে ভেজা টিকে গ্রুপ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আর অবশিষ্ট  জমিতে কি প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী জানিয়েছেন, ধলঘাটা ইউনিয়নকে সাগরের ভাঙন থেকে বাঁচাতে মহা পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। একাধিকবার সার্ভে করে সাগরে বিলীন হয়ে যাওয়া ভূমি উদ্ধার করে টেকসই বাঁধ নির্মাণ করার ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাশ হলে একনেকের অনুমোদন সাপেক্ষে টেন্ডারের পর কাজ শুরু করা যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন পাউবোর এই কর্মকর্তা।

সাগরে বিলীন হচ্ছে ধলঘাটা ইউনিয়ন

সাগরে বিলীন হচ্ছে ধলঘাটা ইউনিয়ন

মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের এমপি আশেক উল্লাহ রফিক বলেন, সরকারের মেগা প্রকল্প সমূহের উন্নয়ন কাজ শেষ হলে ধলঘাটা হবে শিল্প সমৃদ্ধ অঞ্চল ও পর্যটকদের কাছে মনোমুগ্ধকর আকর্ষনীয় স্থান। সেই সঙ্গে এলাকার বেকার যুবক-যুবতীদের কর্ম সংস্থানের উর্বর ক্ষেত্র হবে এ অঞ্চল। আর গৃহহারা উদ্বাস্তুরা ফিরে পারে তাদের স্বপ্নের ঠিকানা।

ধলঘাটার ভাঙন প্রতিরোধ ও টেকসই উন্নয়নে এরইমধ্যে সরকার ২২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সেখানে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল মাতারবাড়ির বন্দর সম্প্রসারণ হয়ে ধলঘাটা পর্যন্ত চলে আসবে। সেখানে বিশেষ এলএনজি টার্মিনাল ও মিনি এয়ারপোর্টসহ নানা উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ করার সরকারের সিদ্ধান্ত রয়েছে। তবে উন্নয়ন কাজ ও টেকসই বেড়িবাঁধ উন্নয়ন প্রকল্প একনেকে অনুমোদন হওয়ার পর খুব শিগগিরই কাজ শুরু হবে বলে আশাবাদী এমপি।

ডিসি মো. মামুনুর রশীদ জানিয়েছেন, ধলঘাটা ইউনিয়নকে উন্নয়নের মেগা প্রকল্পের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করে জমি অধিগ্রহণসহ নানা কর্মযঙ্গ চলছে। বিলীন হয়ে যাওয়া ধলঘাটার ভূমি উদ্ধারে বিশেষ প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি এবং নকশা প্রণয়নের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

একই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2021,বিবিএন নিউজ
Developer By Zorex Zira