1. masudkhan89@yahoo.com : admin :
  2. armanchow2016@gmail.com : bbn news : bbn news
বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:০৭ অপরাহ্ন

বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাংচুর মামলার আসামী আ’লীগের প্রার্থী !

সাংবাদিক :
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ১৩ জুলাই, ২০২১
  • ১৭৩ সংবাদ দেখেছেন

বিবিএন নিউজঃ কক্সবাজার সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালায় বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। সে সময় কার্যালয়ে থাকা বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাংচুর করেন হামরাকারীরা। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহান চৌধুরী বাদি হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ২০/২২ জনকে আসামী করে দ্রুত বিচার আইনের ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার নং-৩৫/২০১৪। অথচ সে মামলার অন্যতম আসামী স্থানীয় মৃত আব্দুল গণি সওদাগরের ছেলে শরিফ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হয়েছেন। এ নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ পদের নেতাদের অনৈতিকভাবে ম্যানেজ করে সাবেক বিএনপি’র এ নেতা আওয়ামী লীগে ভীড় করেছেন। আওয়ামী লীগে এসেই বাজিমাত তার। ভাগিয়ে নিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদকের পদ। এরপর থেকে পেছনে ফিরে থাকতে হয়নি তাকে। নিজেই দায়িত্ব নিয়ে ইসলামপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সম্মেলন করতে ব্যয় করছেন হাজার হাজার টাকা। আর নিজের প্রচন্দের লোকজনকে সভাপতি/সম্পাদকের পদ পাইয়ে দিচ্ছেন। গত কয়েক বছরে আওয়ামী লীগে তার অবস্থান এতই শক্ত হয়েছে যে, দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগে নেতৃত্ব দেয়া নেতাদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হয়েছেন। অথচ গেল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রার্থী তার বড়ভাই বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাংচুর মামলার প্রধান আসামি আবুল কালামের পক্ষে নির্বাচন করেছেন শরিফ। ভাইয়ের জয় নিশ্চিত করতে আওয়ামী লীগে নেতাকর্মীদের ভোট কেন্দ্রে যেতে বাঁধা দেয় সাবেক বিএনপি নেতা শরিফ। অথচ মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে শরিফের আলৌকিক ক্ষমতায় বদলে যায় সব কিছু। এখন দলের সিনিয়র নেতারাও তার ভক্ত। এমনটাই জানিয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মঞ্জুর আলম মামলার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, শরিফ ও ভাইয়ের কারণে ইসলামপুরে আওয়ামী লীগ করা কঠিন ছিলো। তাদের অত্যচারের মাত্রা এতই প্রখড় ছিলো যে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এলাকা ছাড়া ছিলো। সেদিনের মামলাটি দলের সাধারণ সম্পাদক বাদি হয়ে করেছিলেন। মামলার বিষয়টি তিনিই ভাল বলতে পারবেন। আওয়ামী লীগের সভাপতি আরো বলেন, শেখ হাসিনা বারবার হইব্রীড কিংবা ভিন্ন দল থেকে অনুপ্রবেশ ঘটানো নিষিদ্ধ করেছেন। অথচ কে শোনে কার কথা। শরিফের মতো সুযোগ সন্ধানি লোকদের দলের গুরুত্বপুর্ণ পদ দেয়া হচ্ছে। শরিফকে উপজেলার আওয়ামী লীগের নেতা বানানো হয়েছে। দলের সুসময়ে এসে তারাই আওয়ামী লীগের হর্তাকর্তা সেজে আছেন। বিষয়টি দু:খজনক। এদিকে মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়নের পূর্ব নাপিতখালী এলাকার মৃত আব্দুল গণি সও: ছেলে আবুল কালাম (৪২) এর নেতৃত্বে সরকার বিরোধী হরতালের সমর্থনে বিভিন্ন সময় ভাংচুর, গাড়ি চলাচল প্রতিবন্ধকতা, অগ্নি সংযোগ এবং নাশকতা করে আসছিলো। ফলে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সাথে রাজনৈতিক মত বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। ঘটনার সময় ২০১৪ সালের ১১ নভেম্বর রাত অনুমান সাড়ে দশটার সময় ইসলামপুর ইউনিয়নের নাপিতখালী বটতলায় দলীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হরতাল বিরোধী জরুরী মিটিং করছিলো। এ সময় বিএনপি নেতা, আবুল কালাম ও ইউনিয়ন বিএনপি সদস্য মো: শরিফের নেতৃত্বে শসস্ত্র ত্রিশজনেক লোক ফাঁকা গুলি করতে করতে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে হামলা চলায়। তাদের হামলায় দলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহন চৌধুরীসহ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ওসমান আলী মুর্শেদ, ছাত্রলীগ নেতা আবুল ফয়েজ জুয়েল, যুবলীগ নেতা রমজান আহত হয়। এ সময় হামলাকারিরা বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাংচুর করে এবং পা দিয়ে দলিত মলিত করে চলে যায়। এ ঘটনায় সাধারণ সম্পাদক বাদি হয়ে কক্সবাজার মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনার মাত্র ৫ বছরের মাথায় ২০১৯ সালে এসে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েছেন বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাংচুরকারী মো: শরিফ। এ বিষয়টি লজ্জার বলে মনে করেন দলের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। সে সময় হামলায় আহত হওয়া ছাত্রলীগ নেতা ওসমান আলী মুর্শেদ বলেন, আওয়ামী লীগ করে এখন সত্য কথা বলা যায় না। সত্য বললে নেতাদের হাতে তিরষ্কৃত হতে হয়। সেদিন আমিও আহত হয়েছি। অথচ আজ সব কিছু কেমন যেন বদলে গেছে। আমরাই এখন বিরোধী দলে মনে হচ্ছে। বিষয়টি জানতে মামলার বাদি ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাজাহন চৌধুরী বলেন, আমরা যেহেতু রাজনীতি করি, সেহেতু তাদের সাথে মাঝে মাঝে কিছু তর্কবিতর্ক হতো। সে সময় আমাদের সাথে শরিফসহ বিএনপি নেতাদের সাথে হাতাহাতি হয়েছিলো। আমি ও আমার দলের কিছু কর্মী একটু আহত হয়েছিলো। তাই মামলাটি করেছিলাম। পরে আমি আমার রাজনীতির স্বার্থের কথা চিন্তা করে মামলাটি আপোষ করেছি। তিনি বলেন, আমি শোনেছি শরিফ ইউনিয়ন বিএনপির একজন সদস্য ছিলো। গেল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যেহেতু তার বড়ভাই ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করেছেন সঙ্গত কারণে ভাইয়ের পক্ষে নির্বাচন করাটাই স্বাভাবিক। অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে অভিযুক্ত মো: শরিফ হামলার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলেও মামলাটি মিথ্যা বলে দাবি করে বলেন, এটি মূলত ট্রাসপোর্ট নিয়ে ঘটনা ঘটেছিলো। বড়ভাই বিএনপি নেতা স্বীকার করে বলেন, তিনি বিএনপি করলেও আমি আওয়ামী লীগ করি। এক পর্যায়ে প্রতিবেদকের কাছে উল্টো প্রশ্ন করে তিনি বলেন, ২০১৪ সালের ঘটনা ২০১৯ সালে এনে টানাটানি করছেন কেন ? সদর উপজেলায় কি একমাত্র আমিই আলোচিত ব্যক্তি ? আরো অনেকে তো আওয়ামী লীগে এসেছে, তাদের নিয়ে লেখেন না কেন ? জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল করিম বলেন, এক সময় ইসলামপুরে আওয়ামী লীগ করাটা দুষ্কর ছিলো। শরিফ দলে আসার পর থেকে সেখানে আওয়ামী লীগের অবস্থান ভাল হয়েছে। সে দলের দায়িত্ব পেলে তার ভাই আর বিএনপি করার সুযোগ পাবে না বলে দাবি করেছেন তিনি।

শেয়ার করুন

একই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2021,বিবিএন নিউজ
Developer By Zorex Zira