1. masudkhan89@yahoo.com : admin :
  2. armanchow2016@gmail.com : bbn news : bbn news
মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০৩:৫৩ অপরাহ্ন

তিন খাতে রাজধানীর চেয়ে পিছিয়ে চট্টগ্রাম

সাংবাদিক :
  • আপডেট : সোমবার, ৩০ আগস্ট, ২০২১
  • ১১৫ সংবাদ দেখেছেন

বিবিএন নিউজ : সরকারের মশক নিবারণী দপ্তরের ২৩০ জন কর্মী কাজ করেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) অধীনে। ডিএনসিসি’র মশক নিধন কর্মসূচিতে কাজ করলেও তাদের বেতন পরিশোধ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। অথচ দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহর হলেও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত! সরকারের সুযোগের বাইরেও মশক নিধন কার্যক্রমে নিয়োজিত জনবল, বরাদ্দ এবং ব্যবস্থাপনা তিন খাতেই রাজধানীর চেয়ে পিছিয়ে আছে চসিক। ঢাকার দুই সিটিসহ দেশের অন্যান্য কর্পোরেশনগুলোতে মশক নিধনের জন্য আলাদা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো আছে। যা চট্টগ্রামে নেই। এমনকি কীটতত্ত্ববিদ, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাও নেই চসিকে। ফলে নানা ‘চেষ্টার’ পরও নগরে মশক নিধন কার্যক্রমে সাফল্য তেমন আসে না। নগরের মশক নিধন কার্যক্রম নিয়ে চসিকের গঠিত কমিটির প্রতিবেদন সূত্রে এ সব তথ্য জানা গেছে। আগামীকাল (মঙ্গলবার) সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীর কাছে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনটি হস্তান্তর করার কথা রয়েছে। প্রতিবেদনে মশক নিধনে কার্যকর কীটনাশক লার্ভিসাইড (লার্ভা ধ্বংসকারী) ও এডাল্টিসাইড (পূর্ণাঙ্গ মশা ধ্বংসকারী) ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়। এছাড়া পিওপা (মূককীট) ধ্বংসের কার্যকর পদ্ধতি তুলে ধরা হয়েছে এবং চসিকের বর্তমান ব্যবহৃত ‘লিকুইড এডাল্টিসাইট’ ব্যবহার বন্ধের সুপারিশ করা হয়।
অবশ্য প্রতিবেদনের আংশিক ইতোমধ্যে অনানুষ্ঠানিকভাবে মেয়রকে অবহিত করা হয়েছে। সে আলোকে গতকাল রোববার এক হাজার লিটার ‘ম্যালাথিয়ন ৫ পার্সেন্ট ফরমুলেশন’ (রেডি ফর ইউজ) মশক নিধনের কীটনাশক (এডাল্টিসাইড) সংগ্রহ করা হয়েছে। যা পরীক্ষামূলকভাবে ছিটানো হবে। একইসঙ্গে কীটনাশকটির কার্যকারিতা ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। এরপর ভবিষ্যতে ব্যাপকভাবে সংগ্রহ করা হবে। চসিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ আগস্ট ভবিষ্যতে কার্যকর ওষুধ সংগ্রহে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা হচ্ছেন প্যানেল মেয়র মো. গিয়াস উদ্দিন, বর্জ্য স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি মো. মোবারক আলী, ও উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মো. মোরশেদুল আলম চৌধুরী। তবে অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন মশক নিধনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেছে কী না, কি ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করছে, কীটনাশকের উপরে কোনো গবেষণা বা পরীক্ষণ আছে কী না যাচাই করা, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে নলেজ শেয়ারিং ও বিভিন্ন কীটনাশক বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করে প্রতিবেদন প্রস্তুত করার দায়িত্ব দেওয়া হয় মোবারক আলীকে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মোবারক আলী দৈনিক আজাদীকে বলেন, রাজধানীতে গিয়ে ২৪ আগস্ট ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরশনের মশক নিধন কার্যক্রমের বিস্তারিত জানার চেষ্টা করেছি। একইভাবে সরকারিভাবে অনুমোদিত দেশের অন্য সিটি কর্পোরেশনগুলোতে ব্যবহৃত কীটনাশকের তথ্যও সংগ্রহ করেছি। সবকিছু প্রতিবেদনে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।
জানতে চাইলে সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী দৈনিক আজাদীকে বলেন, প্রতিবেদনে যেসব সুপারিশ করা হয়েছে সে আলোকে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করে কার্যকর উদ্যোগ নিব। আমাদের অর্গানোগ্রামে থাকলে মশার জন্য আলাদা কোনো বিভাগ করা যায় কী না তার ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দিয়েছি।
তিন খাতে পিছিয়ে চট্টগ্রাম :
চসিকের মশক নিধন কার্যক্রমে জড়িত সর্বোচ্চ ৩০০ জন। এর মধ্যে মাত্র ২৬৪ জন প্রশিক্ষিত স্প্রে ম্যান রয়েছে। এছাড়া প্রতিটি ওয়ার্ডে স্থায়ীভাবে চার জন করে ১৬৪ জন এবং ১০০ জন ক্রাশ প্রোগ্রামের আওতায় পরিচ্ছন্নকর্মী কীটনাশক স্প্রে করেন। যদিও সবাই প্রতিদিন কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন না। অথচ ডিএনসিসির ৮৬৪ জন লোকবল নিয়মিত মশক নিধন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
ঢাকা উত্তরে মশক নিবারণী দপ্তরের ১৪ জনসহ মশক নিধনে ৫৪ জন সুপারভাইজার কাজ করেন। চট্টগ্রামে এর অর্ধেকও স্থায়ী সুপারভাইজার নেই। এছাড়া ডিএনসিসিতে প্রতিটি ওয়ার্ডে মশক নিবারণী দপ্তর হতে ৮ থেকে ১০ জন এবং আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে ১০ জন মিলিয়ে ১৮ থেকে ২০ জন স্প্রেম্যান মশক নিধনে কাজ করে থাকেন।
ডিএনসিসিতে ১০টি জোনের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হয়। চট্টগ্রামে একটিও নেই। অবশ্য গতকাল রোববার অনুষ্ঠিত চসিকের বর্তমান পর্ষদের সপ্তম সাধারণ সভায় মেয়র চারটি জোন করার নির্দেশনা দেন।
জোন বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চসিকের আয়তন ১৫৫ দশমিক ৪ বর্গ কিলোমিটার। ৪১ ওয়ার্ডে কোনো জোন নেই। প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয় কেন্দ্রীয় ভাবে। বি-কেন্দ্রীকরণ না থাকায় লেজভারী একটি অবস্থা নিয়ে চসিক তার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরিচালনা করে আসছে পরিচ্ছন্ন বিভাগের মাধ্যমে। ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ সহ সকল সিটি কর্পোরেশন মশক নিধনের জন্য আলাদা কাঠামো রয়েছে।
এছাড়া ডিএনসিসি’তে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে ডেপুটেশনে চারজন কীটতত্ত্ববিদ কর্মরত আছেন। চট্টগ্রামে একজনও নেই। ডিএনসিসি’তে এডাল্টিসাইট ছিটানোর জন্য ১৫টি ১৫০ লিটার ট্রাঙ্ক সমৃদ্ধ ভ্যাকেল মেথড থার্মাল ফগার মেশিন ( গাড়িতে বহনযোগ্য উচ্চ মাত্রার ফগিং সক্ষম) থাকলেও চসিকের একটিও নেই।
এদিকে চলতি ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে মশক নিধনে বরাদ্দ আছে মাত্র পাঁচ কোটি টাকা। গত অর্থ বছরে (২০২০-২০২১) ব্যয় হয়েছে এক কোটি ১৫ লাখ টাকা। অথচ ডিএনসিসিতে ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে ৭৫ কোটি টাকা এবং ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে ৮৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
কীটনাশক সংক্রান্ত সুপারিশ :
প্রতিবেদনে চসিকের বর্তমানে ব্যবহৃত পূর্ণাঙ্গ মশা ধ্বংসের কীটনাশক লিকুইড এডাল্টিসাইট (ল্যামডাসাইহ্যালোথিন ও ডেল্টামেথ্রিন) পিএইচপি ৬৯৯ ব্যবহার বন্ধ করার সুপারিশ করা হয়। এর পরিবর্তে ‘ম্যালাথিয়ন ৫ পার্সেন্ট ফরমুলেশন’ (রেডি ফর ইউজ) ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়। ‘ম্যালাথিয়ন ৫ পার্সেন্ট ফরমুলেশন’ ব্যবহারে আইইডিসিআর মেডিকেল এন্টেমলজি বিভাগের ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষায় ২৪ ঘণ্টায় শতভাগ মশা মারা গেছে। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পরীক্ষায়ও এটির সাফল্য ছিল শতভাগ। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ, সিলেট এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনও কীটনাশকটি ব্যবহার করে।
প্রতিবেদনে মশার লার্ভা ধ্বংসে ‘টেমিফস ফিফটি পার্সেন্ট ইসি’ ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়। বাংলাদেশ রোগতত্ত্ব, রোগ নিরূপণ ও গবেষণা ইনিস্টিটিউট পরিচালিত বায়োলজিক্যাল এফিকেসি পরীক্ষায় শতভাগ কার্যকর হয়েছে লার্ভিসাইডটি।
পিওপা (মূককীট) ধ্বংসের কার্যকর পদ্ধতি :
চসিক পিওপা (মূককীট) ধ্বংসে এলডিও (লাইট ডিজেল ওয়েল) ড্রেনের বদ্ধ পানির উপর প্রয়োগ করে আসছে। পিওপা লার্ভা থেকে পূর্ণাঙ্গ মশায় রূপান্তরিত হওয়ার পূর্বে ইংরেজি কমা (,) আকৃতির রূপ ধারণ করে পানির উপরিভাগে ভেসে থাকে। এই পর্যায়ে লার্ভিসাইট ওষুধ দ্বারা বা এডাল্টিসাইট দ্বারা এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না। আমেরিকান সেন্টারস ফর ডিজিস কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন তাদের ওয়েব সাইটে পিওপা কন্ট্রোলের জন্য বদ্ধ পানির উপর খনিজ তেল ব্যবহার করে শ্বাসরোধ প্রক্রিয়ায় পানির উপরে ফ্লিম তৈরি করে পিওপাকে ধ্বংস করার একমাত্র পদ্ধতি হিসেবে গণ্য করে। ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নিয়মিত মশক নিধন কর্মসূচিতে ম্যালেরিয়া ওয়েল বি (এম ও বি) দৈনিক দেড় থেকে দুই হাজার লিটার এবং বিশেষ অভিযানে আট থেকে ১০ লিটার প্রয়োগ করছে। তাই চসিকেও খনিজ তেল/এলডিও প্রয়োগ অব্যাহত রাখার সুপারিশ করা হয়।

শেয়ার করুন

একই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2021,বিবিএন নিউজ
Developer By Zorex Zira