1. masudkhan89@yahoo.com : admin :
  2. armanchow2016@gmail.com : bbn news : bbn news
শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ০১:০৫ পূর্বাহ্ন

১০০ বছরেও পাল্টেনি এ সাঁকো

সাংবাদিক :
  • আপডেট : বুধবার, ২৩ জুন, ২০২১
  • ১০২ সংবাদ দেখেছেন

ফরিদুল আলম শাহীন : কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ও টৈটং ইউনিয়নের মাঝে বয়ে যাওয়া রাজাখালী খালের উপর ব্রিজ না থাকায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘ প্রায় ১০০ বছর ধরে এ ভোগান্তি পোহাচ্ছেন খালের দু’পাড়ের মানুষ। দুই ইউনিয়নের অর্ধ লক্ষাধিক লোকের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের একমাত্র মাধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের তৈরি এ সাঁকো। খালের দু’পাড়ে বসবাসরত ২ হাজারেরও অধিক পরিবার একই সমাজের অধিবাসী। শুধু তাই নয় এক মসজিদও এক কবরস্থান ব্যবহার করেন দু’পাড়ের মানুষ। ওই এলাকার সমাজ কমিটির সভাপতি নুরুল বসর বলেন, খালের এপার ওপারে আমরা ২ হাজারেরও অধিক মানুষ বসবাস করে আসছি। বর্ষায় এ সাঁকো দিয়ে চলাচল করা খুবই কষ্টদায়ক। এপারে কবরস্থান থাকায় ওপারে কেউ মারা গেলে খালের উপর খাটিয়া ভাসিয়ে কবরস্থানে নিতে হয়। আমাদের পূর্ব পুরুষ থেকে শুরু করে প্রায় ১০০ বছর ধরে এ ভোগান্তির যেন শেষ নেই। স্থানীয় বাসিন্দা আহমেদ কবির বলেন, যুগ যুগ ধরে এ সাঁকো নিয়ে যন্ত্রণায় আছি। কোনো অসুস্থ রোগী এ সাঁকো দিয়ে পারাপার করতে খুব সমস্যা হয়।
বর্ষা এলে চরম খারাপ অবস্থায় পড়তে হয়। ছোট ছেলে-মেয়েরা বিদ্যালয়ে নির্বিঘ্নে যেতে পারে না। কবির আক্ষেপ করে আরো বলেন, জনপ্রতিনিধিরা ভোটের আগে আমাদের নানা আশ্বাস দিলেও পরে তা আর কার্যকর হয় না। এভাবে নেতৃত্ব যায় আসে। পাল্টেছে অনেক কিছু। কিন্তু পাল্টেনা এ সাঁকো।
স্কুল পড়ুয়া তোফায়েল আহমেদ বলেন, এ সাঁকো নিয়ে আমরা খুব কষ্টে আছি। স্কুলে যাওয়া আসায় সমস্যার সৃষ্টি হয়। একটু অসাবধানতার সহিত চলাচল করলে পড়ে যাওয়ার আশংকা থাকে। অনেক সময় বই পুস্তকও খালে পড়ে যায়। টৈটং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ভোটের আগে আমরা দুই ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরা জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকি, নির্বাচিত হলে হাজী পাড়ার সেতুস্থলটিকে পাকা ব্রিজ নির্মাণ করে দেব। কিন্তু সাধ থাকলেও সাধ্যের অভাবে এ স্থানে ব্রিজ নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না। আমাদের নির্বাচিত এমপি জাফর আলমও এই সাঁকোস্থলে ব্রিজ নির্মাণ করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু এখনো সেখানে ব্রিজ নির্মাণ করার কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে বারবার এমপি জাফরের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি কয়েক দফায় সাঁকোস্থল পরিদর্শন করেছেন। এবং আবারো প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন রাজাখালী খালের উপর হাজী পাড়া নামক এ স্থানে ব্রিজ নির্মাণ করে দেবেন। মাত্র কোটি টাকা ব্যয়ে রাজাখালী খালের উপর সাঁকোস্থলে ব্রিজ নির্মাণ করা হলে চট্টগ্রাম- কক্সবাজার যাতায়াতকারী দূরপাল্লার যানবাহন যাত্রী ও মালামাল পরিবহন করতে সক্ষম হবে। স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল আজিম বলেন, এ সাঁকোস্থলে ব্রিজ নির্মাণ করা হলে চট্টগ্রাম- কক্সবাজারের একদিকে দূরত্ব কমে যাবে। অন্যদিকে একঘণ্টারও সময়ের আগে গন্তব্য স্থলে পৌঁছানো সম্ভব হবে। ফলে যানচলাচল ও পণ্য পরিবহনে বাধা স্থায়ীভাবে অপসারণ হবে। শুধু তাই নয়, সেতুর এপার ওপারের একই সমাজে অন্তর্ভুক্ত লোকদের দুর্ভোগ থাকবেনা। বর্তমানে রাজাখালী খালের উপর ব্রিজ না থাকায় শিক্ষার্থী, সাধারণ লোকজন ও লাশ পারাপারে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীদের। শুষ্ক মৌসুমে এ বাঁশের সাঁকো দিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল করা সম্ভব হলেও বর্ষাকালে পড়তে হয় চরম দুর্ভোগে। এমনকি মাঝে মধ্যে নানা দুর্ঘটনাও ঘটে সেতু পারাপারে। রাজাখালী ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ নুর ও ইউপি সদস্য নিজাম উদ্দীন জানান, রাজাখালী ইউনিয়নের হাজীরপাড়া নামক এই স্থানটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান। চট্রগ্রামের বাঁশখালী ও পেকুয়ার অসংখ্য লোকজনের চলাচল এই বাঁশের সাঁকো দিয়ে।
ইউপি চেয়ারম্যান আরো জানান, সম্প্রতি এমপি জাফর আলম সাঁকোস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্রিজ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।

শেয়ার করুন

একই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2021,বিবিএন নিউজ
Developer By Zorex Zira