1. masudkhan89@yahoo.com : admin :
  2. armanchow2016@gmail.com : bbn news : bbn news
শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ০৯:১৫ অপরাহ্ন

‘আত্মজ্ঞানের তৃষ্ণা নিয়েই মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে হবে’

সাংবাদিক :
  • আপডেট : শনিবার, ১৭ জুলাই, ২০২১
  • ৭৯ সংবাদ দেখেছেন

শহীদুল্লাহ ফরায়জী। একাধারে গীতিকার, কবি, মডেল। তার লেখা ‘দু চোখ আমার শত্রু হলো’, ‘অপরূপা’, সোনাদানা, ‘চন্দ্র সূর্য যত বড়’ ও ‘মন্দ স্বভাব’সহ একাধিক গান দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। এছাড়া গ্রামীণ ফোনের ‘আবার দেখা’ শিরোনামের একটি বিজ্ঞাপনে মডেল হয়ে বেশ প্রশংসিত হন তিনি। আজ তার জন্মদিন। এদিন উপলক্ষে মানবজমিনের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এন আই বুলবুল আমাকে ক্ষণকালের জন্য এক বিশাল জীবন দান করেছেন, বিশ্বাস এবং অপরিসীম কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সামর্থ্য দিয়েছেন। আর আমার এই জন্মদিনের যোগসূত্র হচ্ছে পরম শ্রদ্ধেয় মা-বাবা। তাদেরকেও অন্তরাত্মা দিয়ে স্মরণ করছি। ‘জীবন’-এই শব্দটার প্রতি আমার চিরকালীন মুগ্ধতা, এটা যেন আমার গভীর উপলব্ধির পরিসীমার বাইরে। পৃথিবীতে আমি একটা নশ্বর ‘দেহ’ আর একটা অবিনশ্বর ‘আত্মা’ পেয়েছি। মনে হয় স্রষ্টার অপরিসীম দানশীলতার সর্বশ্রেষ্ঠ মহার্ঘ হচ্ছে ‘জীবন’। জীবনকে ‘সত্য’ ‘ভালোবাসা’ এবং ‘আত্মজ্ঞান’ এই ৩টিকে একীভূত করে পরিচালিত করতে হয়।

কিন্তু আমরা কি সেটি করতে পারছি?
শহীদুল্লাহ ফরায়জী: আমরা সমগ্র জীবনকে খণ্ড-বিখণ্ড করে অজান্তেই বণ্টন করে ফেলি, জীবন যে অখণ্ড উপহার তা আমরা ভুলে যাই। আত্মজ্ঞানের আপন আলোয় আলোকিত জীবনের মহিমান্বিত দিক এখনো স্বল্প পরিসরেও দেখতে পারিনি। জীবনের ‘মহত্ব’কে নিরন্তর অনুসন্ধান করতে পারিনি। জ্ঞানের অন্তর্নিহিত শক্তি বিবেককে নৈতিকতার অনুশাসনে পুড়িয়ে প্রজ্বলিত করতে পারিনি-অন্যায় অবিচার উচ্ছেদ করার কর্তব্য সম্পাদন করতে পারিনি, মিথ্যাচারের পতন ঘটাতে কোথাও কোনো জলন্ত আগুন জ্বালাতে পারিনি, সমাজকে মানবিক করার লক্ষ্যে উচ্চতম কোনো ভূমিকা রাখতে পারিনি এইখানেই হচ্ছে জীবনের চরম ব্যর্থতার দিক। বিপন্ন মানুষের অশ্রুপাতের পরিবর্তে অনাবিল আনন্দ দিতে পারিনি, বেদনা যাদেরকে আচ্ছন্ন করেছে তাদের উপর সহানুভূতির কোনো সামিয়ানা দিতে পারিনি, অন্ধকার যাদের গ্রাস করেছে তাদের যথাযোগ্য প্রাণশক্তি দিতে পারিনি-মানসিকভাবে বিপর্যস্ত চূর্ণ-বিচূর্ণ যারা তাদের পাশে দাঁড়াতে পারেনি এগুলো হচ্ছে জীবনের বড় লজ্জাজনক দিক। এখনো আমার একটা জ্ঞানপিপাসু হৃদয় আছে, আত্মজ্ঞানের তৃষ্ণায় অবিরাম তৃষ্ণার্ত হই, জ্ঞান ও  সত্য প্রচারে আকুল হই, নিজের কৃতকর্মের জন্য বিবেকের কাছে নিজেই জবানবন্দি দেই, নিজের ভেতরের উপাসনালয়ে ধ্যানে নিমগ্ন হই, সুতরাং নিজেকে দুর্ভাগ্যপীড়িত মনে করিনা। মহত্তম জীবনবোধ আর উচ্চতম নৈতিকতার প্রতি আমার যে কী আকুল আকাক্সক্ষা তা এখন গভীর ট্র্যাজেডিতে পরিণত হয়েছে। আত্মজ্ঞানে আত্ম অনুসন্ধানের জন্য আমার যে কী হাহাকার এবং কী যে আত্মগ্লানি তা কোনোদিন প্রকাশ করতে পারিনি। গভীর আত্মদর্শন ছাড়া জীবনের ব্যাপ্তি, বিশালতা বা ব্যাপকতা কোনোদিন উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। জীবন ও জগতের তাৎপর্য সব সময় অনাবিষ্কৃত অথচ সকল সময় আবিষ্কার করতে হয়। আমি প্রতি মুহূর্তে সতর্ক থেকেছি, লোভ-লালসার ভয়ঙ্কর অন্ধকারের অতল গহ্বর আমাকে যেন চিরকালের জন্য গ্রাস করতে না পারে। অজস্র প্রলোভন যখন আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত এর মতো আমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তখনই আমি প্রতিরক্ষার একমাত্র অস্ত্র, বিবেক দিয়ে তা মোকাবিলা করতে চেয়েছি। আমি আমার নিজস্ব বিচারালয়ের কাঠগড়ায় নিজে লজ্জায় নত হয়ে দ-ায়মান থেকেছি এবং শেষে সুপরিকল্পিতভাবে অনুশোচনার দ-ে আমাকে দ-িত করেছি। মানুষকে প্রতিদিন ভিতরের অন্ধকারাচ্ছন্ন জগতকে বিবেকের আলোয় দেদীপ্যমান করে গড়ে তুলতে হয়। বারী সিদ্দিকীর কণ্ঠে আমার লেখা একটা গান আছে; যত দোষ করেছি আমি হৃদয়ের দোষে-আমি যেতে চাই সুপথে/সে নিয়ে যায় কুপথে/শত্রু আমার/ঘরের ভেতর পায় না/দেখতে মানুষে। ভয়ঙ্কর শত্রু আমার ঘরের ভেতর, অথচ শত্রু আমি দেখতে পাচ্ছিনা। জীবনযুদ্ধে শত্রুর হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছেড়ে দিয়ে নিরাপদ থাকার কোনো উপায় নেই। জীবনযুদ্ধে প্রতিমুহূর্তে ন্যায্যতাকে হাজির রাখতে হয়, মর্যাদাকে উচ্চকিত রাখতে হয়, সাম্যকে পূর্ণশক্তিতে সুরক্ষা দিতে হয়। প্রলোভন সবসময় আমাদেরকে জীবন থেকে দূরে সরিয়ে নেয়, জীবনকে জটিল-কুটিল করে তোলে। আমরা নিজেই নিজেদের বিপদ ডেকে আনি। প্রকৃতি যখন জীবনের উপর ফুল ছেড়ে দেয় তখন আমরা না বুঝে তাকে পাথর ভেবে ছুড়ে ফেলি। দুর্বোধ্য মোহ ক্রমাগত জীবনের অন্তস্থল থেকে আমাদেরকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। জীবনযুদ্ধে সত্য মিথ্যা বা ভালোমন্দ দুই পক্ষের ব্যবধানকে কখনো বিলুপ্ত করা যায় না। ‘মানুষ হওয়া’ এবং ‘মানবিক হওয়া’ এটাই জীবনের মৌলিক দর্শন। এই দর্শনের সঙ্গে সোনার সিংহাসন বিনিময় যোগ্য হয় না। জীবনের মূলধন হচ্ছে ন্যায় পরায়ণতা, প্রভাব-প্রতিপত্তি নয়। পৃথিবীতে মানুষের জাহির করার কিছু নেই। নিজেকে জাহির করা, প্রভাব-প্রতিপত্তি বিস্তার করার জায়গাও নয় এটা। যারা নিজেদেরকে জাহির করতে চায় তারা আত্মার বিদ্রোহী, জীবনের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগে তারা অভিযুক্ত। পৃথিবী হচ্ছে জীবনের জন্য ক্ষণস্থায়ী ভ্রমণ। এটাই আমাদের নিয়তির সঙ্গে অদৃশ্য এবং অজ্ঞাত চুক্তি। যে চুক্তি কোনোকালেই আমরা লঙ্ঘন করতে পারবো না। একদিন জীবনের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতাকারীরা উচিত পুরস্কার পাবে। সকল কিছু চিরদিনের মতো ধ্বংস হয়ে যাবে। সুতরাং জাহির করা, ঔদ্ধত্য, অহঙ্কার বা তুচ্ছতা প্রকাশ চরম অজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ। জীবনের মানে হচ্ছে বিলীন হওয়ার অনিবার্য পরিণতির দিকে এগিয়ে যাওয়া। আমরা যদি জীবনের উদ্দেশ্যকে বুঝতে ব্যর্থ হই তাহলে সকল অর্জনই নষ্ট হয়ে যাবে। দ্রুত জীবনের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যাবে। জীবন থেকে পালাবার কোনো জায়গা নেই আমাদের। জীবনকে বিপর্যস্ত বিশৃঙ্খল ও ভারসাম্যহীন করে আমরা জীবনের অপচয় করতে পারিনা।

মানুষের প্রকৃত বন্ধু কে?
শহীদুল্লাহ ফরায়জী:মানুষের জীবনে জ্ঞানের চেয়ে ভালো বন্ধু হয় না আর হৃদয়ের চেয়ে ভালো প্রতিবেশী হয়না। আমরা যদি বন্ধু এবং প্রতিবেশী নির্ধারনে ভুল করে ফেলি তাহলে অপরিহার্য বিপর্যয় আমাদের ভক্ষণ করে ফেলবে। আমি জীবনের অধিকারী অথচ জীবনের যোগ্য নই -এই অনুতাপে আমি সর্বদা দগ্ধ হই। আমরা যদি পলে পলে জীবনকে পাপের দরজায় নিক্ষেপ করি তাহলে জীবনের চারিপাশে মাধুর্যের ফুল ফুটতে পারবেনা। তাহলে জীবন প্রতিমুহূর্তে ধ্বংসস্তূপের শিকারে পরিণত হবে। তাই সমগ্র জীবন জুড়ে সত্য ও সুন্দরের ফুল ফোটাতে হয়। মানুষ হওয়ার জন্য নিরন্তর নৈতিক যন্ত্রণায় যন্ত্রণাদগ্ধ হতে হয়। ভিতরে অন্ধকার যত বেশি অপসারিত হবে  জীবন তত আনন্দ, আত্মতৃপ্তিতে জ্বলজ্বল করে উঠবে।

জীবনভর কী স্বপ্নে দেখেছেন? জীবনে প্রাপ্তি অপ্রাপ্তি কী?
শহীদুল্লাহ ফরায়জী:আমি স্বপ্ন দেখেছি একজন দার্শনিক সমগ্র জীবন জুড়ে কী করে দর্শনের সাথে দীর্ঘ ভ্রমণ সম্পন্ন করেন, কেমন করে একজন দার্শনিক আত্মজ্ঞানের তরিতে ভেসে আত্মবিনাশের পথকে রুদ্ধ করার দর্শন ফেরি করে বেড়ান, কী করে জ্ঞানের গভীরতায় জাগরণের পথিকৃৎ হয়ে ওঠেন, কী করে আত্মজ্ঞান আহরণে সমগ্র শক্তি নিঃশেষ করেন। একজন নবি বা পয়গম্বর কেমন করে জ্ঞানের আধ্যাত্বিক মুকুট পরিধান করে নক্ষত্রের উচ্চতায় পৌঁছে যান ,আত্মায় আশ্রম গড়ে তুলেন, প্রেমের আলোক শিখা দিয়ে মানুষের অন্তরকে পরিপ্লাবিত করে দেন। একজন পথ প্রদর্শক কেমন করে সমগ্র মানবজাতির পথ পরিদর্শন করেন এবং সর্বজ্ঞতায় নিজেকে বিশ্বজনীন করে তোলেন,ক্ষমা প্রার্থনা করে আল্লাহর আনুগত্য লুটিয়ে পড়েন। তিনি যে পথে হেঁটে যান সে পথ ফুলে ফুলে আচ্ছন্ন হয়ে যায়, মানুষ তার সংকীর্তনে নেমে পরে। ভেবেছি একজন মহাপুরুষ কেমন করে মানুষের বিশ্বাসের মাঝে সত্য বয়ন করেন, আত্মার মাঝে আত্মগোপন করেন, অনন্ত জ্ঞান তৃষ্ণায় একজন মানুষ কী করে মহামানব হয়ে ওঠেন। আমি অবাক হয়ে ভেবেছি বিশ্বমানের একটি ক্লাসিক সাহিত্য কি করে কয়েক শতাব্দি পর দূর দেশের একজন অচেনা মানুষের হৃদয়ের বরফ গলিয়ে দিচ্ছে, চোখের পানিতে বুক ভাসিয়ে দিচ্ছে। কী করে একজন সঙ্গীতজ্ঞ অদৃশ্য সুরের মায়াজালে বুকের ভিতর সমুদ্রের উচ্ছাস জাগ্রত করে দিচ্ছেন। কী করে  একজন শিল্পী নিষ্প্রাণ বাঁশের বাঁশি এবং তারের সেতারে ঐন্দ্রজালিক ক্ষমতা দিয়ে হৃদয়ের বাদ্যযন্ত্রে সুর তুলে  পরিমাপহীন ক্রন্দনে বুকের ভেতর শোকার্ত করে দেন। একজন কবি কেমন করে কবিতার গভীরে ডুবে বিশ্বের বিশাল রঙ্গমঞ্চে যে নিত্য লীলা চলছে তা প্রত্যক্ষ করেন। কেমন করে আকাক্ষিত মানুষের জন্য অপেক্ষা করে থাকেন শ্বাশত বন্দরে। এমন মানুষ কীভাবে জন্ম গ্রহন করে যার শিল্পীসত্তার বৈভব দেখামাত্রই বেদনায় আচ্ছন্ন একজন মানুষের দুঃখ দূরীভূত হয়ে যায়। কী ভাবে মানুষ অপরূপ সুষমার অধিকারী হয়, মননশীলতার সুউচ্চ স্তরে অবস্থান করে। আমি উপলব্ধি করতে চেয়েছি একজন সাধু সন্ন্যাসী কেমন করে অগ্নিপরীক্ষায় নরকযন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যন্ত্রনাভোগের  জীবনকে অভ্যর্থনা জানায়, কেমন করে অপরিসীম বেদনায় কফিনের দিকে এগিয়ে যায়। কেমন করে একজন বীর নিজের স্বপ্নকে ধুলিস্যাৎ করে দিয়ে মানুষের স্বপ্নকে জাগ্রত করেন,  নিজেকে চিরতরে সমাহিত করে অন্যকে বাঁচার উপকরণ তৈরি করে দেন। আমার স্বপ্ন – সেই সব উচ্চতম দার্শনিক, অবতার, জগৎ বিখ্যাত সাহিত্যিক, কবি ,সঙ্গীতজ্ঞ, শিল্পীকে যদি একত্রিত করতে পারতাম, তাদেরকে যদি প্রত্যক্ষ করতে পারতাম, আর তাদের কাছ থেকে যদি সৌন্দর্যের রতœভা-ার আত্মসাৎ করতে পারতাম। আমি কতদিন গ্রিসে গিয়ে সক্রেটিসের সাথে কথোপকথনের আশায় নত হয়ে দাঁড়িয়ে থেকেছি, জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির আশেপাশে হন্যে হয়ে ঘুরেছি,  কত যুগ ধরে প্রতিনিয়ত টলস্টয়ের সাক্ষাৎ লাভের জন্য আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেছি, আর ফিওদর দস্তয়েভস্কির সাথে কথা বলার আশায় নাতাশার সাথে বন্ধুত্ব করেছি। কবিগুরু গেটের বাড়িতে প্রবেশের জন্য অসংখ্যবার ধরনা দিয়েছি। আমি কিছুদিন পর পর লা মিজারেবলে আশ্রয় নেই, ডক্টর জিভাগোর সাথে বসে আড্ডা দেই। বিশ্বসাহিত্যের গভীর সমুদ্রবন্দরে নুড়ি কুড়াবার তৃষ্ণায় বারো মাস সমুদ্র সৈকতে পড়ে থাকি। আত্মশুদ্ধির  সন্ধান পেতে, মহামহিমের করুণা পেতে, দার্শনিকদের সুগন্ধ নিতে, মহামানবদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এবং বিশ্ব বিখ্যাত সাহিত্যিকের সাক্ষাৎ পেতে প্রতিদিন স্বপ্ন দেখি। স্বপ্ন দেখি আত্মজ্ঞানের বৃষ্টি কখন আমাকে পরিপ্লাবিত করে দেবে। কখন আত্মদর্শনের পরশ পাথর আমারে ধরা দেবে। লিওনার্দো দা ভিঞ্চি বলেছিলেন ‘চেতনা যত বেশি বিশুদ্ধ, প্রেমও ততটাই তীব্র’। বিশুদ্ধ চেতনার খরায় কোন দিন আমার কাছে প্রেম তীব্র হয়ে ধরা দেয়নি। বিশুদ্ধ চেতনার যে উচ্চতা তা অর্জন করতে চেষ্টা করেছি মাত্র কিন্তু দখল করতে পারেনি। ফলে প্রেম অধরাই থেকে যায়। দর্শন, সাহিত্য, ভাস্কর্য,  স্থাপত্য এবং চিত্রশিল্পে কী অসাধারণ পা-িত্যপূর্ণ মানুষের আবির্ভাব ঘটেছে। তাঁরা আমাদের হাতের মুঠোয় রাশি রাশি নক্ষত্র তুলে দিয়েছেন। অথচ কি অদ্ভুত ভাবে অন্ধকার আমাদের গ্রাস করে ফেলে। আমার মনে কেবল বিস্ময়ের জন্ম হয়। হাতের কাছে সূর্য পড়ে রইলো অথচ কোনো অন্ধকার দূর করতে পারিনি। অনুতাপ হয়, বড় লজ্জা হয়। তাই ব্যক্তিগত জীবনে প্রতিষ্ঠা লাভের কোনো স্বপ্ন দেখার যোগ্যতা আমার গড়ে ওঠেনি। আমার  সর্বস্ব দিয়েও একটা স্বপ্ন নির্মান করা যায় না। মানুষের ভালবাসা আমার এক মাত্র প্রাপ্তি। আর আমি মানুষকে সীমাহীন এবং প্রতিদানহীন ভালোবাসতে পারি। মানুষের প্রতি আমার মুগ্ধতার শেষ নেই। ভীষণ ইচ্ছে করে পৃথিবীর সকল মানুষের পায়ের কাছে বসে যদি   হৃদয়ের কথা শুনতে পারতাম। এ জীবনে যে স্বপ্ন দেখেছি তা কোনদিন পুরণ হবার নয়। আত্মজ্ঞানের তৃষ্ণায় তৃষ্ণার্ত হয়েই মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে হবে, আমার ভ্রমনের পরিসমাপ্তি ঘোষণা করতে হবে।
বেঁচে থাকার আনন্দকে কিভাবে দেখেন?
শহীদুল্লাহ ফরায়জী: জীবনতো বিস্ময়কর। ছোট্ট দেহ নিয়ে আকাশের উপরের উচ্চতা দেখতে হয়, সমুদ্রের গভীর তলদেশে দেখতে হয় এবং শষ্যদানার মাঝে অপূর্ব সৌন্দর্য প্রত্যক্ষ করে জীবনকে অতিবাহিত করতে হয়। আত্মপ্রতারণা না করে বেঁচে থাকাই হচ্ছে জীবনের আনন্দ। নৈতিকভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত একটা জীবনকে আনন্দ দান করা যায় না। সর্বোচ্চ নৈতিক ও আধ্যাত্মিক লক্ষ্যে জীবনকে পরিচালনা করার যে আনন্দ পৃথিবীর অন্য কোন কিছুতেই তা প্রতিস্থাপনযোগ্য নয়। মানুষ হওয়ার আনন্দ, মানবিক হওয়ার আনন্দ সর্বোপরি আত্মজ্ঞানের আনন্দ কোন কিছুর সমকক্ষ নয়। আমি প্রতি নিশ্বাসে আনন্দ উপলব্ধি করি। আবার মৃত্যুর কথা মনে হলেও এক ধরনের স্বস্তি জনক আনন্দ মনের ভিতর বিস্তার লাভ করে। জন্মের মধ্য দিয়ে যে জার্নি শুরু করেছি তার পরিসমাপ্তি করতে হবে। মৃত্যু আছে বলেই জীবনকে এত ভালোবাসি। মৃত্যুহীন জীবন নরক যন্ত্রণার চেয়েও ভয়ঙ্কর হয়ে যেত। তাই মৃত্যুকেও ‘স্বাগত’ জানাতে প্রতিনিয়ত প্রস্ততি নিয়ে থাকি।
সঙ্গীত নিয়ে আপনার ভাবনা কী?
শহীদুল্লাহ ফরায়জী: সঙ্গীত মহত্তম সৃষ্টি। সৃজনশীল মানুষ হৃদয়কে উর্বর এবং আত্মাকে উজ্জ্বলতা দান করার মত আর কোন সৃষ্টি করতে পারেনি। সমাজকে মানবিক নৈতিক এবং জীবনমুখী করার প্রয়োজনে গান অপরিহার্য। মানব জীবনের অন্ধকার অপসারণে গানকে আরো উচ্চতম নৈতিক শক্তিতে বিন্যস্ত করার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে আমাদের। নয়তো ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে আমাদের মর্যাদা ক্ষুন্ন হবে। জনপ্রিয়তা কোন চিরস্থায়ী বিষয় নয়। একদিন পৃথিবী ধ্বংস হবে, গ্রহ নক্ষত্র ধ্বংস হবে শেষে সূর্যটাও ধ্বংস হবে। সুতরাং টিকে থাকার কোন সুযোগ নেই।
প্রতিনিয়ত কি স্বপ্ন দেখেন?
শহীদুল্লাহ ফরায়জী:আমার মৃত্যু সংবাদ শুনে কেউ না কেউ আক্ষেপ করুক, কেউ না কেউ বেদনার্ত হোক, কারো না কারো চোখে দু একফোঁটা জল ঝরুক। আমিতো নিজেই বুঝি মানুষের জন্য এমন কোন কীর্তি রেখে যাইনি যার জন্য মানুষ আমার মৃত্যুতে গভীর শোকগ্রস্ত হবে। পরিশেষে শেষ বিচারে চূড়ান্ত বিচারকের সামনে আমি যেন অনুগ্রহের যোগ্য হই। মানবজমিনকে প্রাণঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।

শেয়ার করুন

একই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2021,বিবিএন নিউজ
Developer By Zorex Zira