1. masudkhan89@yahoo.com : admin :
  2. armanchow2016@gmail.com : bbn news : bbn news
বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ০১:১০ অপরাহ্ন

‘যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন বাঙালির হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকবেন’

সাংবাদিক :
  • আপডেট : রবিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২১
  • ৯৭ সংবাদ দেখেছেন

বিবিএন নিউজ: ১৯৪৭ সাল থেকেই বাঙালির জন্য রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পাবনার জনগণকে সম্পৃক্ত করেছিলেন। এজন্য নিয়মিত প্রত্যক্ষ যোগাযোগ রাখতেন। ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী, আমজাদ হোসেন, আবদুর রব মিয়া, অ্যাডভোকেট আমজাদ হোসেন, অ্যাডভোকেট আমিন উদ্দিন খন্দকার, আবু তালেবসহ অনেকেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। তাদের আজ কেউ জীবিত নেই। বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্যে আসার সুযোগ পাওয়া জীবিতদের মধ্যে অন্যতম একজন হচ্ছেন আমিরুল ইসলাম রাঙা।  পাবনা আটঘরিয়া উপজেলার বেরুয়ান গ্রামে ১৯৫৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন আমিরুল ইসলাম রাঙা। গ্রামে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে ১৯৬৪ সালের পাবনার ঐতিহ্যবাহী আর.এম একাডেমিতে ভর্তি হন। ১৯৬৮ সালের ছাত্রলীগের স্কুল শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৭০ সালে সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় স্কুলছাত্র সংগ্রাম পরিষদের পাবনা জেলা যুগ্ম আহবায়ক হন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তার সম্পাদনায় পাবনা থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ইছামতির সম্পাদক হন।

তিনি আটঘরিয়া প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি আটঘরিয়া উপজেলা পরিষদের সামনে দেবোত্তর কবি বন্দে আলী মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি। তিনি সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ পাবনার প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমানে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য। তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ।

শিক্ষাজীবনের শহীদ আব্দুল খালেক উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, আটঘরিয়া কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজ থেকে স্নাতক পরীক্ষায় অংশ নেন। তিনি পাবনা শহরের রাধানগর মজুমদার পাড়ায় নিজ বাড়িতে বসবাস করেন। তার সন্তানরা সুপ্রতিষ্ঠিত।

পাবনার জনসভায় বক্তব্য দিচ্ছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান; ১০ মে ১৯৭২

পাবনার জনসভায় বক্তব্য দিচ্ছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান; ১০ মে ১৯৭২

আমিরুল ইসলাম রাঙা ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, ১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে খুব কাছে থেকে পাঁচবার দেখার সুযোগ পেয়েছিলাম। এরমধ্যে দুইবার কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। একবার আমার লেখা কবিতা শুনিয়েছিলাম। আরেকবার তার গলায় মাল্যদান করি এবং আমার নিজের লেখা মানপত্র প্রদান করি। দুই বার তার জনসভা শোনার সুযোগ হয়। আরেকবার ঢাকা স্টেডিয়ামে অস্ত্র সমর্পন অনুষ্ঠানে খুব কাছে থেকে দেখেছিলাম।

বঙ্গবন্ধুকে জীবনে প্রথম দেখি ১৯৬৬ সালের ৭ এপ্রিল। আমি তখন রাধানগর মজুমদার একাডেমিতে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ি। বঙ্গবন্ধুর পাবনায় আগমন উপলক্ষে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চলছিল। ঠিক সেই সময়ে রাধানগর মক্তব এলাকায় পাড়ার মুরুব্বি, বড় ভাই এবং সহপাঠীদের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর পাবনায় আগমন নিয়ে মেলামেশার সুযোগ পেয়েছিলাম। তখনই মূলত রাজনীতি নিয়ে একটু ধারণা হয়। প্রথম ধারণা হয় ছাত্রদের জন্য ছাত্রলীগ আর বড়দের জন্য আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের প্রধান নেতা হলেন শেখ মুজিব। আর সেই শেখ মুজিব আসবেন পাবনায়। কৌতুহলটা তখন চরম পর্যায়ে। বেশ কয়েকদিনের প্রচার প্রচারণা শেষে ঘটনাবহুল ৭ এপ্রিল।

পাবনা পৌর সদরের মক্তব স্কুলের মোড় থেকে পাড়ার মুরুব্বি রমজান আলী, কিয়ামুদ্দিন প্রাং, এরশাদ প্রাং, গোরা মান্নান, মোহররম প্রমুখদের নেতৃত্বে শতাধিক জনতার মিছিল পাবনা টাউন হল অভিমুখে রওয়ানা হয়। আমার মতো ছোট ছেলেরা ছিল মিছিলের সম্মুখভাবে। স্লোগান দিতে দিতে পাবনা টাউন হলে পৌঁছালাম। মিটিং শুরুর বেশ আগে আমরা উপস্থিত হয়েছি। আমার মতো কিশোর তরুণ এবং কিছু সংখ্যক নারীদের জন্য মঞ্চের খুব কাছে বসার সুযোগ হয়। সেখান থেকে নেতাদের বক্তৃতা শোনা এবং তাদের দেখার জন্য খুব ভালো জায়গা ছিল। স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বক্তৃতা করছেন। এক পর্যায়ে টাউন হলের মাঠ ভরে রাস্তায় মানুষ জমায়েত হয়েছে।

বিকেলে জনসভা শুরু হলো। পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আমজাদ হোসেনের সভাপতিত্ব এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রব বগা মিয়া পরিচালনা করছিলেন। সেদিন পাবনার অনেক নেতাকে প্রথম দেখি। একপর্যায়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবসহ কেন্দ্রীয় নেতারা মাঠে এলেন। একে একে সফরসঙ্গীরা বক্তৃতা দিলেন। শেষে বক্তব্য দেওয়ার জন্য মাইকের সামনে এলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। খুব কাছে থেকে তাকে দেখছিলাম আর তার দরাজ কন্ঠের ভাষণ শুনছিলাম। যেমন সুন্দর তার চেহারা তেমন সুন্দর তার ভাষণ।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

সেদিনের অসাধারণ মুহূর্তটি এখনও মানসপটে জেগে আছে। বলা যায় সেদিন থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আমার অন্তরে গেঁথে যায়। সেই থেকে আমার রাজনীতি শুরু হলো। ৬৭ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপন, ভুট্টা আন্দোলনে অংশগ্রহণ, ৬৮-৬৯ এর গণআন্দোলনে সক্রিয় কর্মী ছিলাম। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় আর. এম, একাডেমি স্কুল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও পরে সভাপতি হলাম।

১৯৬৯-৭০ সালে দুইবার ঢাকায় ছাত্রলীগের সম্মেলনে যোগদান করার সুযোগ হলো। ১৯৬৯ সালে পাবনার স্কুল ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক হলাম। ১৯৭০ সালে জানুয়ারী মাসে পাকিস্তান দেশ ও কৃষ্টি বই বাতিলের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখলাম। সেই আন্দোলনের সময় আট পৃষ্ঠার কবিতা লিখে আলোচিত হলাম। এরই মধ্যে পাবনার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং ছাত্র নেতৃবৃন্দের কাছে যথেষ্ট পরিচিত হলাম।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে দ্বিতীয়বার দেখলাম ১৯৭০ সালে ৮ মার্চ। বঙ্গবন্ধু কুষ্টিয়া থেকে সড়ক পথে পাবনা আসেন। পাবনার পাকশী, দাশুড়িয়া, টেবুনিয়া, এডওয়ার্ড কলেজ গেটে পথসভা করেন। বিকেলে পাবনা স্টেডিয়ামে ( তৎকালীন জিন্নাহ পার্ক) বিশাল জনসভায় ভাষণ দেন। সেদিন পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রব বগা মিয়ার বাড়িতে বঙ্গবন্ধুকে খুব কাছে থেকে দেখা এবং তাকে আমার লেখা আটপৃষ্ঠার কবিতাখানি পাঠ করা এবং একটি কবিতা তাকে দেয়ার সুযোগ পেয়েছিলাম।

বঙ্গবন্ধুর সামনে পুঁথি পাঠের সুরে কবিতা পড়া এবং কবিতার ভাষা শুনে অভিভূত হয়েছিলেন। তিনি আমাকে তাৎক্ষণিক জড়িয়ে ধরে উৎসাহিত করেছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্যে আসার সুযোগ পাওয়া জীবিতদের মধ্যে অন্যতম একজন হচ্ছেন আমিরুল ইসলাম রাঙা। 

বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্যে আসার সুযোগ পাওয়া জীবিতদের মধ্যে অন্যতম একজন হচ্ছেন আমিরুল ইসলাম রাঙা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তৃতীয়বার দেখলাম ১৯৭০ সালে ২৫ ডিসেম্বর। পাবনায় নব-নির্বাচিত এমপি আহমেদ রফিক ১৭ ডিসেম্বর নির্বাচনে জয়লাভের পাঁচদিন পর ২২ ডিসেম্বর শহরের রাঘবপুর মহল্লায় নিজ বাড়ির সামনে নক্সালদের হাতে নিহত হলে বঙ্গবন্ধু ২৫ ডিসেম্বর পাবনায় আসেন। সেদিন বঙ্গবন্ধু ঢাকা থেকে সড়ক পথে পাবনায় এসে শহীদ আহমেদ রফিকের বাসভবনে যান। সেখানে শোক সন্তপ্ত পরিবারকে শান্তনা দেন। সেখান থেকে আরিফপুর কবরস্থানে গিয়ে নিহত আহমেদ রফিকের কবর জিয়ারত করেন। এরপর পাবনা পুলিশ লাইন মাঠে শহীদ আহমেদ রফিককে হত্যার প্রতিবাদে বিশাল সমাবেশে বক্তৃতা করেন। সেদিন বঙ্গবন্ধুর পাবনায় আগমনে খুব কাছে থেকে বঙ্গবন্ধুকে দেখি এবং তার বক্তব্য শুনি।

এরপর ১৯৭২ সালে ৩১ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে চর্তুথবার দেখলাম ঢাকা স্টেডিয়ামে মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র সমর্পণ অনুষ্ঠানে। আটঘরিয়া থানা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আনোয়ার হোসেন রেনুর নেতৃত্বে ৩০ জানুয়ারি আমরা পাবনা জেলা স্কুল থেকে রওয়ানা দিয়ে ঈশ্বরদী রেল জংশনে যাই। সেখান থেকে ট্রেনে ঢাকা যাই। বলা যায় গোটা ট্রেনে গোলাবারুদ আর অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত মুক্তিযোদ্ধাদের দল। পরেরদিন সকালে ঢাকা পৌঁছে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ঢাকা স্টেডিয়ামে যাই। সেখানে সারাদেশ থেকে আগত মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে বঙ্গবন্ধু অস্ত্র গ্রহণ করেন। সেদিন খুব কাছে থেকে বঙ্গবন্ধুকে দেখি এবং তার ভাষণ শুনি।

পঞ্চম এবং শেষবার বঙ্গবন্ধুকে দেখি ১৯৭২ সালের ১০ মে। সেদিন হেলিকপ্টারে পাবনা স্টেডিয়ামে সকাল দশটার দিকে অবতরণ করলে তাকে মাল্যদান করি। আমার সঙ্গে ছিলেন পাবনা পলিটেকনিক্যাল ছাত্র সংসদের জি এস আবদুল হাই তপন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম বিশ্বাস, আল মাহমুদ নিটু প্রমুখ। মাল্যদানের সময় বঙ্গবন্ধুকে বলি ‘আমি রাঙা।’ পাবনা থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ইছামতি পত্রিকার সম্পাদক। বগা চাচার বাড়িতে আপনাকে কবিতা শুনিয়েছিলাম। কথা শেষ না হতেই বঙ্গবন্ধু আমাকে জড়িয়ে ধরলেন। সেদিন বঙ্গবন্ধুকে মাল্যদানের ছবি আমার কাছে এখনো সংরক্ষিত আছে।

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করে সার্কিট হাউসে চলে যান। একই দিন সন্ধ্যায় পাবনা বনমালী ইন্সটিটিউটে বঙ্গবন্ধুকে নাগরিক সংবর্ধনা দেয়া হয়। সেখানে আমি নিজের লেখা মানপত্র বঙ্গবন্ধুকে অর্পণ করি। নাগরিক সংবর্ধনায় বিভিন্ন ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান থেকে বঙ্গবন্ধুকে মাল্যদান এবং মানপত্র দেওয়া হয়। এরপর বঙ্গবন্ধু নাগরিক সংবর্ধনায় খুব আবেগঘন বক্তব্য দেন। সেই বক্তব্যের অনেক কথা এখনও স্মৃতির পাতায় অম্লান এবং অমলিন হয়ে আছে।

বঙ্গবন্ধু সেদিন অশ্রুসিক্ত নয়নে এই দেশ কিভাবে পুনর্গঠন করবেন তা বলতে যেয়ে বিচলিত হয়ে পড়েছিলেন। সবাইকে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পূনর্গঠনে কাজ করার আহবান জানান। সেদিন নাগরিক সংবর্ধনা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। প্রায় একঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বঙ্গবন্ধু পাবনা স্টেডিয়ামে অবস্থানরত সমস্ত জনতার সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হলেন। শেষে জহুরুল ইসলাম বিশ্বাসের  মায়ের নেতৃত্বে আওয়ামী মহিলা স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর গার্ড অব অনার গ্রহণ করে পাবনা সার্কিট হাউসে যান।

১৯৭৩ সালে ২৫ ফেব্রুয়ারি পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রব বগা মিয়া মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করলে বঙ্গবন্ধু শেষবার পাবনায় আসেন। আমার দুর্ভাগ্য সেবার দেখার সুযোগ হয়নি। এরপর ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট মর্মান্তিক ঘটনার মধ্যে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হন। বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে আজ তার বয়স হতো ১০০ বছর। একজন মানুষ স্বাভাবিকভাবে শতবর্ষ বেঁচে থাকা হয়তো কিছুটা বিরল। তবে মহান ব্যক্তিরা শতবর্ষ কেন হাজার বছর বেঁচে থাকেন মানুষের হৃদয়ে। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন বাঙালির হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকবেন।

শেয়ার করুন

একই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2021,বিবিএন নিউজ
Developer By Zorex Zira